কবিতা

ওলট-পালট
মোহাম্মদ মোস্তফা

দেখে এলাম কাল সদরে
কুখ্যাত এক আল-বদরে
হাঁকায় গাড়ি ডাটসন
এবার নিয়ে আটসন!

মুক্তযোদ্ধা কেরামত
করতো গাড়ি মেরামত
একখানা পা হারিয়ে শেষে
ভিক্ষে করে রাতদিন
আল-বদরের বাড়ি গিয়ে
বলছে কেঁদেঃ ভাত দিন!

বল না মাগো এ ঘটনা
ঘটছে কিসের জন্য
মুক্তিযোদ্ধা হয় ভিখারী
রাজাকার হয় ধন্য!


নিষিদ্ধ কবিতা
মোঃ আরিফ হোসেন

এর চেয়ে কলা গাছও ঢের ভালো
অবনত মস্তকে কলার কাঁদি এগিয়ে দিতাম পরার্থে
স্বার্থ খুঁজতাম না।

হাতি-ঘোড়াও তো হলাম না
সওয়ারীকে পৌঁছে দিতাম সাত-সমুদ্রের ওপারে
নিজের ফেরার কথা ভাবতাম না।

উষ্টা-লাথি খেয়েও বারবার
সখ্যতার সুযোগে কিশোরীর কোলে চড়ে ‘ওম’ নিতাম
গৃহস্থের বাড়ির উনুনের পাশে শুয়ে থাকা কুকুর বিড়াল হতাম
তাও হলাম কই!

মানুষ হতে চাইলাম
গল্পের প্লটে-প্লটে, কবিতার পঙ্ক্তিতে-পঙ্ক্তিতে
ঠেঁসে দিতাম তীব্র নিন্দা আর বিষম ঘৃণা
প্রতিবাদের ঝাঁঝালো মিছিলে, বজ্র নিনাদে
ফেঁপে উঠতাম, বাহাদুর হতাম;
কিন্তু মানুষও হতে পারলাম না!

শ্বাপদের কোলাহলে
মিথ্যাচার আর কৈফিয়তের ভারে ন্যূব্জ আমি
ক্রসফায়ার-রিমা--গ্রেনেড, রক্তের স্রোত
আমাকে তাড়া করে বেড়ায় প্রতিনিয়ত

আর অভিমানে-ভয়ে-ক্ষোভে
আমিও গা-ঢাকা দেই নিঝুম দ্বীপে
মানুষ হলে কি ভীতুর অরণ্যে মুখ লুকাতাম?

 


বিপ্রতীপে তুমি
রাজীব গুপ্ত

তোমার জন্মকে জন্ম বলব না
জন্মান্তর বলব তাকে,
তোমার মৃত্যুকে মৃত্যু বলা যাবে না,
অন্তর্ধান বলা যাবে।
বর্ষ পরিক্রমায় তুমিতো ফিরে
আসছো, শতবর্ষ ধরে
তোমার অগ্নি-দৃষ্টিকে আমি
অগ্নি-দৃষ্টি বলিনা বরং দক্ষিণা বলব তাকে
কেননা দহন নেই তোমার দর্শনে
তোমাকে কখনও আমি আমার বলব না,
তুমিতো সবার।


কবি
পারভীন আক্তার

তুমি কবি
আমি বলবো তুমি আবেগ-প্রবণ
তুমি কবি
ভালবাস নদী, গাছ, ফুল, পাখি, আকাশ...
সৃষ্টি কর বর্ণ শব্দ সমষ্টি।
কখনো তুমি বাউল
ভুলে যাও সবকিছু।
আনমনা বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে থাকো
কখনো আত্মভোলা
খুশির হিল্লোলে ভেসে যাও।
আমি তোমার সহযাত্রী একজন কবি,
সর্বদা পকেটে সাদা কাগজ, কলম
অপেক্ষায় সুন্দর একটি কবিতা নির্মাণের।


কষ্ট-কবিতার রক্ত
মাহতাব হোসেন

মূলতঃ কিসের এত অবজ্ঞা তোমার
পদতলে নষ্ট চাঁদ, কবিতার ভ্রুণ
সিক্ত শব্দ শিল্পী কাঁদে প্রসব ব্যথায়
অবারিত যাতনায় জন্ম দেয় প্রেম।

হে প্রিয় কষ্ট, তোমার বুকে বাসা বাঁধা
প্রেমের জলে মৎস্য শিকার, তোমাকে
কাছে পাবার সাঁতারে বোমা বিস্ফোরণ
তাই কবির ডাইরী জাইগেটপূর্ণ
আজ চাপ চাপ কষ্ট-কবিতার রক্তে।


চাবি
শেলী নাজর

সমস্ত চাবিই মিথ্যে পুরুষের বাঁকাজলে, রুদ্ধ মর্মমূলে
যারা খুলেছিল অবগুন্ঠিত জানালা, মড়কের পাশে জন্ম
বুনো ঝরনা, ভাঙা মন্দিরের দ্বার সান্ধ্যনদীর কূলে
সে চাবি স্বপ্ননিষিক্ত, মৃদু আঁচে জ্বেলেছিল চাঁদের চিন্ময়
রবীন্দ্রবিষাদে গীত হলো কত শত উল্লসিত বব মার্লে
দাসীর শরীরে উদাসী ঘাগরা খুলেছিল ভীরু ফিতে ও প্রণয়

নিরন্ন, উপোসী আজ, অন্য কোনো হাতে আছে শস্য ও ভাঁড়ার
যে চাবি আবীর ঢেলে, খুলেছিল মন্ত্রপূত কলসের মুখ
সকলেই মিথ্যে বলে, মর্চে ধরা জাদুবাক্স, তালার হৃদয়
শুকনো পল্লবজাল, মৃত প্রজাপতি ভরা তোরঙ্গে অসুখ
কীভাবে নামব আজ কুমার নদের বিভঙ্গ খাঁড়িতে, মিথ্যে চাবি
এখন দেয়ালে ঝোলে সারি সারি প্রতারণা, মাটির মুখোশ
মিথ্যে চাবি জড়ো করি, মিথ্যে চাবি ভেসে যাক খরশান ঝড়ে
সমস্ত চাবিই মিথ্যে লীলাবান পুরুষের দুর্বোধ্য পাঁজরে।

 

 

 

 

 

 
lbheading