চিঠিপত্র

নুরুল করিম স্থাপন করেছেন অনন্য উদাহরণ
wazi ullahনোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের সুসন্তান ব্রিটেন প্রবাসী নুরুল করিমের অর্থায়নে গরীব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে এবারও বৃত্তির চেক তুলে দেয়া হয়। প্রতিবারের মত এবারও তাঁর আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বেশ জমজমাট হয় বলে পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়। নুরুল করিম এবার বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে একটি চমক দেখিয়েছেন- তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নয়া মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমকে দিয়ে বৃত্তির চেক বিতরণ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপি-আওয়ামী লীগের স্থানীয় সিনিয়র নেতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এক মঞ্চে বসার ব্যবস্থা করেন -যা স্থানীয় জনগণ অনেকদিন দেখেন না। এর কৃতিত্ব একমাত্র নুরুল করিমেরই -এজন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

সমাজসেবী-দেশপ্রেমী নুরুল করিম একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন -যাতে পাচ্ছেন এলাকাবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন ও আন্তরিক সহযোগিতা। মানুষের প্রতি তাঁর সেবার হাত আরও প্রসারিত হোক, তিনি সুস্থ, সবল থাকুন -এ আমার একান্ত কামনা।

-মোঃ শামসুল আরেফিন টিটু
আমতলী, মহাখালী, ঢাকা

 

একটি সামাজিক অনাচার
মানুষ রাগ হলে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে। রাগ প্রশমনের একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে গালাগাল করা। কারও ওপর রাগ হলে তাকে গালাগাল করলে রাগ অনেকটা কমে যায়। আমাদের দেশে প্রায় প্রত্যেকেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। যারা অশিক্ষিত ও গরিব তারা গালাগালকে নিজের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে মনে করে। একজন লেখক কৌতুক করে গরিবের গালাগালকে গরিবের কবিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিভিন্ন দেশের মানুষ এদেশে অনেকেই এমন অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে, যা শুনে কানে আঙুল দিতে হয়। তখন পরিবার-পরিজন সঙ্গে থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। গালাগালের মাধ্যমে রাগ প্রশমনের ব্যবস্থা একটি সামাজিক অনাচার। এ অনাচার থেকে সমাজকে মুক্ত করা প্রয়োজন। শালীনতা ও শিষ্টাচার ছাড়া কোন জাতি ভদ্র বলে পরিচিতি লাভ করতে পারে না। সর্বজনীন শিক্ষা এ ব্যাপারে অনেক সহায়ক হবে বলে মনে করি। এ দিকটির প্রতি সমাজকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-কবিতা চাক্লাদার
সহকারী অধ্যাপক, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ

কৃষক-জনতার বিক্ষোভ
নোয়াখালীর ৯টি উপজেলার মধ্যে সেনবাগে ৬০ ভাগ ব্রিকফিল্ড বিদ্যমান। দূষিত বায়ুর কারণে প্রায় ১ হাজার ২০০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকের মাথায় হাত। এছাড়াও এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক ও স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা ফুসফুসে ক্যান্সার, অ্যাজমা, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। গর্ভবতী মায়েদের সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মাচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং মুমূর্ষু রোগী, ডায়রিয়ায় আক্রান্তসহ গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সেনবাগে বিকলাঙ্গ শিশু বেশি জন্মাচ্ছে। আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এর প্রতিবাদে সেনবাগের জনগণ রাস্তায় ব্যারিকেড, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা অব্যাহত রেখেছে। জনবসতি এলাকায় নিষিদ্ধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া বন্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় গাছ ফেলে জনচলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। পরে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওইদিন বিকালে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কৃষক ও ইটভাটার মালিকদের নিয়ে কৃষি জমির ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ক্ষতিপূরণ দিলে তো সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের দাবি, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া বন্ধ করে কৃষকদের জমি আবাদ এবং অত্র এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার নাগরিক হিসেবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের প্রচলিত পরিবেশ আইনে ও জনবসতি এলাকায় ইটভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এরপরও সেনবাগে ২০টি, ছাতারপাইয়ায় ১৬টি, আরও ৩টি নির্মাণাধীনসহ মোট ৩৮টি ইটভাটা রয়েছে। সম্প্রতি হাজার হাজার কৃষকসহ এলাকাবাসী সেনবাগের ছাতারপাইয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় স্কুল মাঠে মানববন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সভা করেন। সভা শেষে ছাতারপাইয়া বাজারে বিক্ষোভ করা হয়। যদি এ ইটভাটা অবিলম্বে উপযুক্ত স্থানে সরিয়ে না নিয়ে এলাকার জনগণকে রক্ষা না করা হয়, তাহলে এ এলাকা কৃষি-অযোগ্য, অনাবাদি জমি ও জনবসতিশূন্য এলাকা হিসেবে পরিগণিত হবে। এ ব্যাপারে সরকারের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

-মোঃ গিয়াস উদ্দিন (হৃদয়)
সেনবাগ, নোয়াখাল

হারবাল ক্লিনিকের জমজমাট ব্যবসা
বৃহত্তর নোয়াখালীতে শত শত হারবাল ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। প্রত্যেক থানায় ১০-১২টি করে সর্বরোগের স্থায়ী চিকিৎসার নামে হারবাল ক্লিনিক রয়েছে। এগুলো চালুর ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুনের কোন বালাই নেই। নামসর্বস্ব ওইসব হারবাল ক্লিনিকের দৌরাত্ম্যে নিরীহ রোগীরা প্রতারিত হলেও, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা নেই। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার চৌমুহনী, সোনাপুর, লক্ষ্মীপুর, রায়পুরে সবচেয়ে বেশি হারবাল ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসা। রিকশাচালক-দালাল, প্রতিষ্ঠানের স্টাফ, গ্রাম্য কিছু হাতুড়ে ডাক্তার-কবিরাজ বিভিন্ন জায়গা থেকে অসহায় রোগীদের ভালো চিকিৎসা দেয়া হবে -এমন মিথ্যা প্রলোভনে হারবাল ক্লিনিকে নিয়ে আসে। নিম্নতম ৪-৫ হাজার টাকা থেকে ঊর্ধ্বে ২০-৩০ হাজার টাকা নিয়ে ১২ ঘন্টা এবং ২৪ ঘন্টায় সব রোগের স্থায়ী চিকিৎসা করা হয় -এমন বহু হারবাল ক্লিনিক যত্রতত্র দেখা যাবে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাস ধরে ডিশ এন্টিনার মাধ্যমেও লক্ষ্মীপুর, রায়পুরে হারবাল ক্লিনিকের জোরালো প্রচার চলছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-আবদুর রহমান
রায়পুর, লক্ষ্মীপুর

আইসিটি কর্মীদের মূল্যায়ন করুন
্অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর থেকে শুরু করে সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটররা অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট/সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার পাশাপাশি পদোন্নতি পেয়ে থাকে। সম্প্রতি সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটরদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূলত কম্পিউটার অপারেটররাই কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজগুলো সম্পাদন করে থাকেন। তাছাড়া উল্লিখিত পদগুলোর মধ্যে কম্পিউটার অপারেটরদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও বেশি। কিন্তু কম্পিউটার অপারেটরা সিলেকশন গ্রেড কিংবা পদোন্নতি কোনটাই পায় না। এমনকি বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সিলেকশন গ্রেড কিংবা পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন একই পদে চাকরি করে সিলেকশন গ্রেড কিংবা পদোন্নতি না পাওয়ায় কম্পিউটার অপারেটরা সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার জন্য সংস্থাপন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-মাহফুজুর রহমান
রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর


 

 

 

 

lbheading