ব্যক্তিত্ব কলাম
 

লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনভিত্তিক শিল্প স্থাপনে শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহিত করা উচিত

মোঃ সিরাজ উল্যা, এফসিএ
অর্থ পরিচালক (অবঃ), বিসিআইসি

wazi ullah

হিসাব বিজ্ঞানের উজ্জ্বল ছাত্র হিসেবে পড়ালেখার প্রতি যেমন ছিলেন বিশেষ যত্নশীল, তেমনি কর্মজীবনেও নিজ দায়িত্বের প্রতি থেকেছেন নিষ্ঠাবান। সরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থেকে পরিচালনায় যেমন দিয়েছেন যোগ্যতার পরিচয়, তেমনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর কর্মনিষ্ঠায় কোন ছেদ পড়েনি।

প্রতিটি মানুষের জীবনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা বিশেষ প্রয়োজন। মানুষের মাঝে এ দু’টি গুণ থাকলে তার কাছ থেকে গুড গভার্নেন্স বা সুশাসন আশা করা যায়। যে সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন থাকে- সে সমাজে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার গুণ এবং সুশাসনের আদর্শের সমাবেশ ঘটেছে যার জীবনে, তিনি সরকারের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সমাজসেবী কল্যাণকামী চৌকস ব্যক্তিত্ব মোঃ সিরাজ উল্যা; বিসিআইসি’র সাবেক অর্থ পরিচালক; বর্তমানে একটি সিএ ফার্মের পার্টনার এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ও উপদেষ্টা। এক ব্যস্ততা থেকে আরেক ব্যস্ততায় এসেও ভুলতে পারেন না শৈশব-কৈশোরের সোনাঝরা দিনগুলোর কথা, শেকড়ের টানে বারবার আসেন লক্ষ্মীপুরের জন্মস্থানের মাটিতে; সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে যান নিজেরই অজান্তে। এখানে প্রাপ্তিযোগ না থাকলেও আছে জনসেবার অপার আনন্দ। এলাকার মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করার আনন্দটাই আলাদা। তাঁর সাথে আমাদের একান্ত আলাপচারিতা হয়েছে বিভিন্ন দিক নিয়ে। মাটি ও মানুষের সাথে গভীর মমত্বে ভরা তাঁর আলাপের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে সন্নিবেশিত হলো।


নিজ জন্ম এলাকার কথা কি ভাবছেন? এলাকার সাথে যোগাযোগ কেমন এবং কিভাবে সে যোগাযোগ রক্ষা করেন -এমন প্রশ্নের জবাবে মোঃ সিরাজ উল্যা বলেন, যে মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি, যে আলো-বাতাসে বড় হয়েছি, জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছি তাকে কি ভোলা যায়? জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপী গরিয়সী -এ মহাজন বাক্যের কথা অন্তরে ধারণ করে আছি। জন্মস্থানের কথা প্রায়ই মানসপটে ভেসে ওঠে। তাই জন্মস্থানের ঋণ পরিশোধে বর্তমানে লক্ষ্মীপুরে নিজ এলাকায় দু’টি প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি জড়িত আছি। লক্ষ্মীপুরের রাজীবপুর মাদ্রাসা পরিচালনাসহ এখানকার শিক্ষকদের মাসিক বেতনক্রমে উল্লেখযোগ্য অংশ বহন করে থাকি এবং আলাদাভাবে হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকদের পূর্ণবেতন আমি ব্যক্তিগতভাবে বহন করি। এছাড়া আদনান কো-অপারেটিভ হাউজিং -এর নির্বাচিত ট্রেজারার আমি। তাই মাসে অন্ততঃ একবার লক্ষ্মীপুরে যাওয়া-আসা করি।

লক্ষ্মীপুরের বাল্যস্মৃতির কথা মনে পড়ে কি, যা আপনার মনকে আজও দোলা দেয় -এমন এক প্রশ্নের জবাবে সিরাজ উল্যা বলেন, আমাদের ছোটবেলায় গ্রামে পালাগানের জমজমাট আসর বসতো। আমরা বন্ধুরা মিলে গানের আসরে যেতাম এবং সারারাত জেগে গান শুনতাম। এখনকার ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকজ সংগীতের মূর্ছনা থেকে অনেক দূরে, তারা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ধুম-ধাড়াক্কা গান, ব্যান্ড শো’ -এগুলোতে বেশি আকৃষ্ট। ফলে গানের ভাষায় প্রাণের কথার মধুর শিহরণ থেকে তারা বঞ্চিত।

সিরাজ উল্যা লক্ষ্মীপুর সম্পর্কে তাঁর ভাবনার কথা বলতে যেয়ে বলেন, আমাদের সময় লক্ষ্মীপুরে সামাদ একাডেমী, মডেল হাইস্কুল ছিল। আমি প্রথমে মডেল একাডেমীতে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ে পরবর্তীতে সামাদ একাডেমীতে ভর্তি হই। এখন লক্ষ্মীপুর অনেক উন্নত। সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মহিলা কলেজসহ দু’টো কলেজ সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্মীপুর যখন মহকুমা হয়, তখন সেখানে প্রাইমারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য স্থাপিত হয় পিটিআই -যা অনেক জেলা শহরেও ছিল না। আমি যখন বিসিআইসি-তে, তখন লক্ষ্মীপুরে মেঘনা সারকারখানা নামে একটি বৃহৎ শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে বেশ অগ্রগতিও হয়েছিল, কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেল সে সার কারখানা চলে গেল অন্য জেলায়, অন্য এলাকায়। কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে এটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল, কিন্তু বাড়াভাতে ছাই পড়ার মত ঘটনা ঘটে গেল। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুরের জনপ্রতিনিধিরা সার কারখানা প্রতিষ্ঠার পুনঃউদ্যোগ নিয়েছিলেন কিনা জানি না। তবে জনপ্রতিনিধিদের উচিত এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া। কেননা একটি সার কারখানা লক্ষ্মীপুরের তথা এলাকাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তানরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন, তাঁদের সহযোগিতা নিয়ে সার কারখানাটি লক্ষ্মীপুরে স্থাপনের পুনঃউদ্যোগ কি নেয়া যায় না -এমন জিজ্ঞাসার জবাবে সিরাজ উল্যা বলেন, গ্যাস প্রাপ্তির পর লক্ষ্মীপুরে সেই সার কারখানা স্থাপন সহজ হবে। তখন সে সার কারখানা স্থাপনের দাবিতে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে হবে। কারণ সার কারখানা স্থাপনের জন্য যে ক্রাইটেরিয়াগুলো দরকার তার প্রায় সবগুলোই লক্ষ্মীপুরে বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন, যেখানে যমুনা সার কারখানা হচ্ছে আমাকে সেখানে যেতে হয়েছে নৌকা দিয়ে। সে কারখানার মাটি ভরাট করার জন্যই বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অন্য যেকোন স্থান থেকে সার কারখানা স্থাপনের জন্যে লক্ষ্মীপুর আদর্শ স্থান।

সয়াবিনের রাজধানী খ্যাত লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কেমন -এ অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে নিজ মতামত ব্যক্ত করার অনুরোধ করলে সিরাজ উল্যা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৮০% সয়াবিন লক্ষ্মীপুরে উৎপন্ন হয়। সয়াবিন ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তারা এখনও এগিয়ে আসছেন না। এ ব্যাপারে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে যারা দায়বদ্ধ তারা এক্ষেত্রে সাড়া দেবেন বলে আমি আশাবাদী।

বিসিআইসি’র গুরু দায়িত্বে থাকাকালীন লক্ষ্মীপুর তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর শিল্পোন্নয়নে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপনার সহযোগিতা চেয়েছিল কি, কিংবা আপনি নিজেও এ ব্যাপারে ভেবেছিলেন কি -এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মোঃ সিরাজ উল্যা বলেন, জয়েন্ট ভেঞ্চারে শিল্প প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কেউ বিসিআইসিতে আসেনি। তবে সার কারখানা স্থাপনের ব্যাপারে কয়েকজন ব্যক্তি বা কিছু প্রতিষ্ঠান এসেছিল, কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এ ব্যাপারে কোন অগ্রগতি হয়নি।

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- সয়াবিন বেইজ্ড ইন্ডাস্ট্রি ছাড়া লক্ষ্মীপুরে আর কোন কারখানা গড়ে তোলা যায় কিনা- জবাবে মোঃ সিরাজ উল্যা বলেন, লক্ষ্মীপুরে মৎস্যভিত্তিক একটি শিল্প গড়ে তোলা যায়। লক্ষ্মীপুর ও রায়পুরের মাঝামাঝি এলাকায় এটা স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসন সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে মোঃ সিরাজ উল্যা বলেন, সারাবিশ্বেই জলবায়ু সংকট চলছে। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। উন্নত দেশগুলোই জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী -এটা তারাও মেনে নিয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু সংকট নিরসনে সহযোগিতা পাবে। লক্ষ্মীপুর বা বৃহত্তর নোয়াখালীর জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সময়মত যোগাযোগ রাখলে এ ব্যাপারে ফলপ্রসূ সহযোগিতা পেতে পারেন। জলাবদ্ধতা নিরসন হলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনীহা বা ধীরগতি সম্পর্কে নিজ মতামত ব্যক্ত করে সিরাজ উল্যা বলেন, লক্ষ্মীপুরবাসী বেশ ক’জন স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি রয়েছেন, যারা সিরিয়াসলি চেষ্টা করলে এলাকায় শিল্প গড়ে উঠতে পারে। বিসিক শিল্প এলাকায় যেসব প্লট খালি পড়ে আছে সেসব খালি প্লটে তারা যৌথভাবে বা গ্রুপভিত্তিক শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসতে পারেন।

মোঃ সিরাজ উল্যা বিসিআইসি’র ডাইরেক্টর হিসেবে দেশের বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি প্রফেশনাল লোক না দিয়ে পরিচালনা করা হয় -তাহলে সে প্রতিষ্ঠান কাঙ্খিত ফলদানে সক্ষম হবে না। বিসিআইসি-তেও চেয়ারম্যান আসেন, ডাইরেক্টর আসেন, তারা কিছুদিন পর চলেও যান। এরফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতার ব্যাঘাত ঘটে, এজন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া এবং এর বাস্তবায়নে তারা সফল হন না। টেকনোক্রাট বা প্রফেশনাল লোক দিয়ে যদি বিসিক শিল্প পরিচালনা করা হতো, তাহলে আজকের এই স্থবিরতা দেখা দিত না। বিসিকের জন্মের পর থেকে উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্পর্কে এর মিটিংগুলোতে আলোচনা হয় না, দাবির প্রেক্ষিতে আলোচনা হয় শুধু কর্মচারীদের নানা সমস্যা নিয়ে। বিসিকের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলীর ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের মমত্ববোধ গড়ে ওঠে না, তারা এটাকে আপন বলে ভাবার আগেই অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এজন্য তারা তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতা কিছুই কাজে লাগাতে পারেন না।
লক্ষ্মীপুর বার্তা’র মূল্যায়ন প্রসঙ্গে কর্মযোগী ব্যক্তি ও লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোঃ সিরাজ উল্যা বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা আমাদের প্রিয় পত্রিকা। প্রকাশনালগ্ন থেকে এ পত্রিকাকে আমি কাছে থেকে দেখেছি, গভীর আগ্রহ সহকারে এ পত্রিকা পড়েছি। লক্ষ্মীপুর বার্তা বৃহত্তর নোয়াখালীর হৃদ-স্পন্দনের সাথে যুক্ত, লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে পরস্পরের কাছে টেনে এনেছে, গড়ে তুলেছে সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন।

লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশনার উন্নততর স্তরে পৌঁছেছে। আমরা আগামীতে এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। লক্ষ্মীপুর বার্তা বর্তমানে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে প্রকাশিত হচ্ছে -এটি আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। ‘বৃহত্তর নোয়াখালীর তথ্যভান্ডার’ এ অভিধায় লক্ষ্মীপুর বার্তা যাতে আগামীতে অভিহিত হয় -এ আমাদের শুভ কামনা।



মোঃ সিরাজ উল্যা’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মোঃ সিরাজ উল্যা ১৯৫২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৭নং ভাঙ্গাখা ইউনিয়নের রাজীবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মোবারক আলী ছিলেন একজন সমাজসেবক; মা মরহুমা আছিয়া খাতুন ছিলেন ধর্মপরায়ণ গৃহিণী।

তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে মোঃ সিরাজ উল্যা হলেন ৪র্থ। বড় ভাই মোঃ সফিক উল্যা একজন চৌকস, পরপোকারী ও যশস্বী কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় দু’যুগ ধরে সরকারের অতীব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর তথা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

মোঃ সিরাজ উল্যা ১৯৮৩ সালের মার্চে বিয়ে করেন। স্ত্রী রেহেন আরা আক্তার একজন সুগৃহিণী ও সমাজসেবক। তাঁদের একমাত্র সন্তান আদিল-বিন সিরাজ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ করেছে।

মোঃ সিরাজ উল্যা’র শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের রাজীবপুর প্রাইমারী স্কুলে। অস্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন লক্ষ্মীপুর মডেল স্কুলে, ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাস করেন সামাদ একাডেমি থেকে। ১৯৬৯ সালে লক্ষ্মীপুর কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে সেকেন্ড ক্লাস নিয়ে বি কম ডিগ্রিলাভ করেন; ১৯৭৯ সালে চার্টার্ড একাউন্টেনসি পাস করেন।

মোঃ সিরাজ উল্যা কর্মজীবন শুরু করেন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৮২ সালে যোগদেন বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিআইসি) এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানায়। ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে জেনারেল ম্যানেজার পদোন্নতি নিয়ে প্রধান কার্যালয়ে অর্থ বিভাগের বিভাগীয়-প্রধানের দায়িত্বলাভ করেন। রসায়ন শিল্প সংস্থায় ৯ বছরের কর্মজীবনে তিনি ৩ বার সংস্কার কাজে অবদান রাখার জন্য আর্থিকভাবে পুরস্কৃত হন। তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস্ অব বাংলাদেশ -এর ফেলো মেম্বার, ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অব আমেরিকার ফেলো সদস্য, বেসরকারি সংস্থা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য, বিসিআইসি’র রিটায়ার্ড অফিসার ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ও আজীবন সদস্য; লাইফ মেম্বার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটস। এছাড়াও কর্মজীবনে তিনি বহুজাতিক কোম্পানী নোভার্টিজ বাংলাদেশ লিঃ -এর পরিচালক এবং সিন্জানটা কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘদিন সদস্য ছিলেন; তিনি বিসিআইসি’র বৃহত্তম সারকারখানা জিয়া ফার্টিলাইজার (বর্তমানে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার), কর্ণফুলি পেপার মিল -এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ বিসিআইসি’র অধিভুক্ত বিভিন্ন সারকারখানা, পেপার মিল ও সিমেন্ট কারখানার পরিচালনা পর্ষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

 
 
lbheading