date
cover
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
নিয়মিত কলাম
প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখাইল্যার নালিশ || নিয়মিত ১৬৭

আংগো সেলাম ও শুভেচ্ছা নিয়েন। আন্নের অসুস্থতার খবর অনেকেই জাইনতো না। ইয়ার মইধ্যে হাঁটুতে ছোটখাট একটা অপারেশনও অইছে। আন্নে অহন সুস্থ আছেন ইয়ান জানি সবাই স্বস্তিবোধ কইরতেছে। পরম করুণাময়ের কাছে আমগো প্রার্থনাÑ আন্নে দ্রুত আরোগ্যলাভ করেন, দায়িত্ব হালনে সক্রিয় অই উডেন।
ইয়ার মইধ্যে অর্থমন্ত্রী মুহিত সাব বিশাল বাজেট উপস্থাপন কইরছেন। হেতেন নিজেও একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, নয়া শিল্প স্থাপন, বন্ধ কারখানা আবার চালুকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় শিক্ষানীতি দ্রুত কার্যকরকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণ, ইউনিয়ন হর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তৃণমূলতুন জঙ্গীদমনে কার্যকর ব্যবস্থা, ৮ম শ্রেণীর হাবলিক হরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠান, যুদ্ধাপরাধীগো বিচার দ্রুত সম্পন্ন করণ,  ২০০১ সালে ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার হর বিরোধীদল ও সংখ্যালঘু নাগরিকগোর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন-ধর্ষণ-চাঁদাবাজিসহ নানারকম অমানবিক কার্যকলাপের ঘটনা সরজমিনে তদন্ত করি অপরাধীগো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা কইরেন। অবশ্য ২০০৯ -এর সংসদ নির্বাচনে জনগণ হিয়ানের জবাব দিছে। সাথে সাথে এইবার আন্নের সরকার গঠনের হর ছাত্রলীগ, যুবলীগ নামধারী কিছু নেতা-কর্মী যেভাবে টেন্ডারবাজি, চান্দাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কাজে অংশ নিছে, আন্নের নিষেধাজ্ঞা হুনে ন’, বিস্তারিত তদন্তহুর্বক দোষীগো শাস্তির ব্যবস্থা করি ছাত্রলীগরে বাঁচানÑমূলদল আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদেরসহ ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ যুবলীগের কয়েকজনের উপর দায়িত্ব দেন। এ গুরুত্বহুর্ণ কাজটা দ্রুত সম্পন্ন করি সংগঠনের স্বচ্ছতা হিরাই আইনেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) মাইধ্যমে যেসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চইলবে তাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লাই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েন। কিছু কিছু ডিপার্টমেন্টে কাজেকর্মে পুকুরচুরি অয়, কোন কোন সময় সাগরচুরিঅ’ অয় Ñইয়ান আন্নের নলেজের বাইরে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কাজে যাতে গোঁজামিল না দিতে হারে হিয়ারলাই সংশ্লিষ্টগো সতর্ক করি দিয়েন আগেভাগেই।
আন্নের সরকারের এক বছর হুর্ণ অইছে। দ্বিতীয় বছরে মহাজোটের কর্মতৎপরতা তৃণমূল হর্যায়ে লই যাইতে অইবো। শুধু ইলেকশনের টাইমে জোট করি অন্য সময় বিচ্ছিন্ন থাকা ভুল হদক্ষেপ বলি মনে অয়। মন্ত্রীসভা আরো ছোড করি মহাজোটের শরিক দলগুলানতুন দক্ষ ও উপযুক্ত লোক মন্ত্রীসভায় স্থান দেন। মহাজোটের বিভিন্ন দলকে বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করি দেন। এরশাদ সাবরে বিশেষ দূতের দায়িত্ব দেয়ার কথা চিন্তায় রাখিয়েন। হেতেন বাংলাদেশরে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের যে প্রস্তাব দিছেন, হিয়ান অভিজ্ঞ মহলের লগে আলোচনা করি বিবেচনায় রাইখেন।
বিদ্যুৎ সমইস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা কইরতে অইবো। কৃষির উপর সর্বাধিক জোর দি’ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অইবার দিকে আগাইতে অইবো। কৃষি ঋণ সহজ করি দি’ প্রকৃত কৃষকের আতে ঋণের ট্যাঁয়া হোঁছাই দিতে অইবো। মহাজন, হড়িয়া, দাদনদারের হাত তুন উৎপাদক কৃষকরে মুক্ত কইরতে না হাইরলে উৎপাদনে গতিবেগ সৃষ্টি অইবো না। উৎপাদকের হ্যাডে ভাত থাইকলে হেতারা উৎপাদনে ঝাঁপাই হইড়বোÑ ইয়ান স্বতঃসিদ্ধ কতা। হাওরে এইবার আচমকা বইন্যায় বাঁধ ভাঙ্গি হসলের ব্যাপক ক্ষতি অইছে, কৃষকের উঠতি হসল বইন্যার হানিতে তলাই গেছে। উৎপাদক অহন সাহায্যপ্রার্থী। এই দুঃসময়ে আন্নের সরকাররে হাওর-বাওর এলাকার কৃষকের বিশেষ সহায়তা দি’ বাঁচাই রাইখতে অইবো। ব্যাংক ঋণ, কৃষি উপকরণ, সেচের লাই বিদ্যুৎ ইত্যাদির ব্যবস্থা অইলে বিপন্ন কৃষক আবার ঘুরি দাঁড়াইবো।
বিশ্বমন্দা অনেক দেশের অর্থনীতিরে হোতাই হালাইলেঅ’ বাংলাদেশের অর্থনীতিরে কাবু কইরতে হারে ন’। গার্মেন্টস সেক্টরে কিছু সমইস্যা অইলেঅ’ বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি তেমন কমে ন’। ইয়ারলাই বৈদেশিক মুদ্রার হা-ের অবস্থা খুব হরাগত। যেকোন ক্রাইসিস মোকাবেলা করনের ক্ষেমতা আন্নের সরকারের আছে Ñইয়ান আন্নের সরকারের বিরোধীরাও অস্বীকার কইরতে হাইরতো না।
অহন সরকারের ভিতরের অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু কঠোর হস্তে নয়, প্রয়োজনে ‘কুঠার হস্তে’ দমন কইরতে অইবো। সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর সুশাসন নিশ্চিত কইরলে দেশের অগ্রগতি কেউ ঠেকাই রাইখতে হাইরতো না। তরুণ সমাজরে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ কইরতে হাইরলে এতাগোরে দি’ অসাধারণ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব। এককালের আদর্শ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগে পঁচন ধইরছে, ক্যান্সারের মত সারা অংগে ছড়াই যাঅনের আগে দ্রুত নিরাময়ের ব্যবস্থা কইরতে অইবো। শরীরের ক্যান্সার আক্রান্ত অংশের লাই মায়া কইরলে ক্যান্সার নিরাময় অইতো না, সেটা কাডি হালানোই উত্তম। ছাত্রলীগের ব্যাপারেঅ’ আন্নের কঠোর নির্দেশ প্রয়োজন। ইয়ার মইধ্যে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনের অনেক বদনাম অই গেছে, এইবার রাশ টানি ধরেন।
প্রতি হরিবারে কর্মক্ষম একজন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার কথা ঘোষণা কইরছেন। বেকারের দেশে হাবলিক এই খবরে খুশি অইছে, হেতারা আশাবাদী অইছে যে, আন্নের সরকারের এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু অইবো। মাইনষেরে আস্থায় রাখি কাজকর্মে হাত দিলে তার বাস্তবায়ন সফল অইবো।
এইবার বৃহত্তর নোয়াখালী আঙ্গিকে কিছু কতা কইতাম চাই। নোয়াখালী সম্ভাবনাময়ী অঞ্চল অইলেঅ’ সঠিক হরিচালনার অভাবে এর উন্নয়ন যথাযথভাবে অইতেছে না। নোয়াখালী অহন নেতাশূন্য। যোগ্য নেতৃত্ব গড়ি উইঠতে সময় লাগে। রাজনীতিতে যেতেনরা সক্রিয় আছেন হেতেনগো মধ্যতুন সেই নেতৃত্ব গড়ি উইঠবো। বর্তমানে যেতেনরা সিনিয়র হর্যায়ে আছেন হেতেনরা বিরোধীদলে। বৃহত্তর নোয়াখালী তুন অহনঅ’ কারোকে আন্নের মন্ত্রীসভায় স্থান দেন ন’। কাজেই নোয়াখালীর হক্ষে সরাসরি কতা বলার যহন কেউই নাই, তখন আন্নেকে এই ব্যাপারে আগাই আইসতে অইবো। যেসব সমইস্যা দীর্ঘদিন নোয়াখালীর উন্নয়ন-অগ্রগতি ব্যাহত করি যাইতেছে হেইগুলানের ত্বরিৎ সমাধানে আন্নের হস্তক্ষেপ জরুরি।
সরকারি হর্যায়ে স্থাপিত নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের কতা বলা যায়। এই মেডিক্যাল কলেজের ফলক উন্মোচন সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের আতেই অইছিল। কিন্তু হেই মেডিক্যাল কলেজ দু’দু’বার ক্ষমতায় থাকিঅ’ বাস্তবায়ন করেন ন’ জিয়ার উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার। ঘটনাক্রমে খালেদা জিয়া নোয়াখালীর সন্তান অইলেঅ’ নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়ন করেন ন’। বাস্তবায়ন কইরছে ওয়ান-ইলেভেনের হর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জেনারেল মইন-উ আহমেদে’র উদ্যোগে। সরকারি নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠায় মইন উ আহমেদের অবদান নোয়াখালীর মানুষ স্বীকার করে। অহন প্রতিষ্ঠাই যখন অই গেছেÑ সেটাকে ভালোভাবে চালানো উচিত। মেডিক্যাল কলেজের নিজস্ব জমির উপর কলেজের বিভিন্ন ভবন, হাসপাতাল কমপ্লেক্স, ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল, শিক্ষকগো কোয়ার্টার ইত্যাদির নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করণ জরুরী। আন্নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েন যাতে এই কাজগুলান তাড়াতাড়ি শেষ অয়। এই সমইস্যাটার আশু সমাধানের ব্যবস্থা কইরেন। আজ এখানেই শেষ করি। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু।                  
-এম মোস্তফা

 
 
 
lbheading