date
cover
 
 
 
প্রতিবেদন

নোয়াখালীর শিশু আল-আমিনের রাজধানীতে এসেই বিচিত্র অভিজ্ঞতা...
সাত বছরের আল-আমিন নোয়াখালী থেকে রওনা দিয়ে সম্প্রতি ঢাকায় পৌঁছায়। সঙ্গে বাবা রতন হাওলাদার ও মা খোরশেদা বেগম। রাজধানীর পল্লবীতে নানির বাসায় ওঠে তারা। তখন সবে ভোর হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দূর সম্পর্কের আত্মীয় আব্দুল হক শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। পাশেই পল্লবীর শিয়ালবাড়ী ৭ নম্বর সড়কে নির্মাণাধীন একটি সাততলা ভবন। আল-আমিনকে নিয়ে আব্দুল হক ভবনের তিন তলায় ওঠেন। দরজা খুলে ঘুমাচ্ছিলেন কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক। পাশেই মোবাইল ফোন চার্জ দেয়া হচ্ছিল। হঠাৎ এক শ্রমিকের ঘুম ভেঙে যায়। শিশুটিকে রেখেই পালিয়ে যান আব্দুল হক। মোবাইল চোর সাব্যস্ত করে আটকানো হয় শিশু আল-আমিনকে।
ততক্ষণে সকাল হয়েছে। নির্মাণাধীন বাড়িটির আশপাশের লোকজন হঠাৎ শুনতে পায় কেউ একজন চিৎকার করে বলছে, এই বাড়িতে একটি শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে। একে একে লোকজন জড়ো হতে থাকে। খবর দেয়া হয় র‌্যাবে। র‌্যাব সদস্যরা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে পল্লবী থানায় নিয়ে যান।
এদিকে শিশু আল-আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিলÑ এই গুজবের ভিত্তিতে এলাকার কিছু লোক বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা বাড়ির তত্ত্বাবধায়কসহ নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর করে। পুড়িয়ে দেয় সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-হ-৩৩-৯৩০৭)। কিছু লোক ভবনে থাকা পানির পাম্পও নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ছুটে যান পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সিরাজুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল। তার আগেই সরে পড়ে হামলার সঙ্গে জড়িত লোকজন।
তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই পল্লবী থানায় সাত বছরের শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন ওসি ইকবাল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সেকেন্ড অফিসার আফজাল হোসেন। পুলিশ মোবাইল চুরির বিষয়ে একের পর এক প্রশ্ন করছে। আর ওদিকে ক্লান্তিতে বারবার চোখ বুঁজে আসছে ক্লান্ত শ্রান্ত শিশুটির। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে এসেছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার সিরাজুল ইসলাম। তাঁর নির্দেশে শিশুটিকে বাবা-মার কাছে বুঝিয়ে দেন ওসি। সন্তানের জন্য বাবা-মা তখন বাইরেই অপেক্ষা করছিলেন।
শিশুটির নানি জাহেদা খাতুন (৪৮) বলেন, আল-আমিন বাবা-মার সঙ্গে তাঁর বাসায় ওঠেন। এই প্রথম তারা ঢাকায় এসেছে। সকাল থেকে আব্দুল হক ও আল-আমিনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বুয়ার মাধ্যমে তিনি খবর পান একটি শিশুকে মোবাইল চুরির ঘটনায় আটকে রাখা হয়েছে। এরপর র‌্যাবে খবর দেয়া হয়। জাহেদা খাতুন বলেন, আব্দুল হক তাঁর আত্মীয় এবং তার বাসায়ই থাকেন। ঘটনার পর থেকে আব্দুল হকের কোনো খোঁজ নেই বলেও জানান তিনি।
পল্লবী থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, শিশুটিকে আমরা জুস ও চিপস দিয়েছিলাম। কিন্তু সে শুধুই বলছিল, আম্মার কাছে যাব। ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেছেন ওই ভবনের সুপারভাইজার লাল চান মিয়া। এরপর পুলিশ এলাকা থেকে বিজয় চৌধুরী ও সুমন নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভবনের কাঠমিস্ত্রি জসিম উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘুম ভাঙতেই তিনি দেখেন একটি শিশু দাঁড়িয়ে আছে। শিশুটি বলে, নানা তাকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু ওই সময় বড় কাউকে জসিম উদ্দিন দেখেননি। ভবনের বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মাসুদ রানা বলেন, আমার চৌকির পাশেই শিশুটি দাঁড়িয় ছিল। মোবাইল চুরি করতে এসেছে কি না প্রশ্ন করতেই শিশুটি বলে, সে নানার সাথে এসেছে।'

 
     
lbheading