নোয়াখালীর সুসন্তান আবুল খায়েরের সুনিপুণ নেতৃত্বে সাফল্যের স্বর্ণদ্বারে
এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল
বৃহত্তর নোয়াখালীর একজন স্বনামধন্য বধূ একবার মন্তব্য করেছিলেন, নোয়াখালীর লোকজন অনেকেই শূন্য থেকে শুরু করে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করেছেন। এ কেমন করে সম্ভব? নিঃসন্দেহে বলা য়ায়Ñ একাগ্রতা, বিশ্বস্ততা, সততা এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের ফলে তাদের জীবন হয়েছে সাফল্যের মোড়কে গঠিত, শিল্প কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তারা রয়েছেন নেতৃত্বের ভূমিকায়। জেলার বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা এমন কি সুদূর প্রবাসেও বৃহত্তর নোয়াখালীর উদ্যোক্তা কৃতী সন্তানরা শিল্প-কারখানা স্থাপন করেছেন। উদ্যোক্তাগণ এলাকায় শিল্প স্থাপন না করায় স্থানীয় জনগণের মনে একটা চাপা ক্ষোভ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়, তবে তারা তাদের এলাকাবাসীর গৌরবময় কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য অবশ্যই গর্বিত, আনন্দিত। নোয়াখালীর উদ্যোক্তাগণের শিল্প স্থাপন, বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথটি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। অনেক বাধা-বিপত্তি, অনেক চড়াই উৎরাই ডিঙ্গিয়ে তাদের সাফল্যের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে। তাদের সংগ্রামী অথচ সাফল্যময় জীবন এবং কর্মধারা সম্পর্কে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের রয়েছে জানার প্রচুর আগ্রহ। তাদের সাফল্য থেকে নতুন প্রজন্মের শিল্প-বাণিজ্য উদ্যোক্তাগণও পাবেন প্রেরণার অফুরন্ত উৎস। এই লক্ষ্যেই আমরা শুরু করেছি নতুন কলামÑ শিল্প ও বাণিজ্যে নোয়াখালীর উদ্যোগ। আশা করি পাঠকদের এ কলামটি আকৃষ্ট করবে। এদের সংগ্রামী জীবন থেকে তারা লাভ করবে প্রচুর উৎসাহ-উদ্দীপনা। দেশের অন্যতম সেরা ট্রাভেল এজেন্সী এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ-কে নিয়ে আমাদের এবারকার প্রতিবেদন।
এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ
বাংলাদেশ বিমানের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ‘ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী’, ‘আকাশে শান্তির নীড়’! হ্যাঁ পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে ঠিকই, তবে আয়তনে নয়, এর দূরত্বের দিক থেকে। এখন অত্যাধুনিক বিমানে চড়ে মানুষ পৃথিবীময় ছুটে বেড়াচ্ছে। মানুষের এ ভ্রমণকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আমাদের দেশের বিমান সংস্থার সাথে আরো কয়েকটি উন্নত দেশের বিমান সংস্থা প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে, যাত্রীদের কাছে টিকেট বিক্রয় এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করছে। ‘আকাশে শান্তির নীড়’ এ কথার সত্যতা তারা প্রমাণ করতে সচেষ্ট, তাদের কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে। প্রায় দুই সহস্রাধিক ট্রাভেল এজেন্সী বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। তাদের নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছে এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সি অব বাংলাদেশ (আটাব)। আটাবভুক্ত এমনি একটি ট্রাভেল এজেন্সী ‘এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ’ নয়াপল্টনের সিটি হার্ট ভবনে বলতে গেলে ঢাকার হার্ট অব দি সিটিতে তার ব্যবসায়িক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। যার উদ্যোক্তা বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতী সন্তান জনাব মোহাম্মদ আবুল খায়ের। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ট্রাভেল এজেন্সীতে চাকরি নিয়ে (১৯৭৭ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত)। কিন্তু চাকরির মোহ তাকে ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বেরিয়ে আসেন বিশাল কর্মক্ষেত্রে। আর কারো অধীন নয়, এবার স্বাধীনভাবে ব্যবসা শুরু করবেন। কিসের ব্যবসা? যে পেশাকে পছন্দ করে তিনি চাকরি নিয়েছিলেন সেই ট্রাভেল এজেন্সীর ব্যবসাই করবেন বলে মনস্থির করলেন। ততদিনে তিনি এই ব্যবসার নাড়ি-নক্ষত্র জেনে ফেলেছেন। তাঁর মনে এই আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হয় যে, তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হবেন। তাই তিনি সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় না পৌঁছা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
জনাব খায়ের ১৯৭৯ সালে টাইমস ট্রাভেল নামের ট্রাভেল এজেন্সীতে পাটনারশীপে ব্যবসা শুরু করেন। শুরুটা এককভাবে করার ঝুঁকি নিলেন না। যদিও তাঁর লক্ষ্য ছিলো এককভাবে একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাবেন। তবে বেশিদিন তাকে অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯৮৩ সালেই তার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে হাত দিলেন। শুরু করলেন ট্রাভেল এজেন্সীর নতুন ব্যবসা। নতুন কোম্পানীর নাম দিলেন ‘এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ’ মালিকানা নিজ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভালমন্দ, লাভ-লোকসান সব দায়-দায়িত্ব তার নিজ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সুবিধা হলো এর পরিচালনার ক্ষেত্রে, কোন গুরুত্বপূর্ণ কিংবা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হয় না, কালক্ষেপণও হয় না। ব্যবসা ক্ষেত্রে কোনো সময় ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। এ চিন্তাটি মাথায় রেখেই জনাব খায়ের তাঁর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে সেভাবে দাঁড় করিয়েছেন এবং উত্তরোত্তর সাফল্য অর্জন করে চলেছেন।
জনাব খায়ের এর ট্রাভেল এজেন্সী ব্যবসা ছাড়াও নোয়াখালীর সেনবাগ থানায় ডেইরী, পোল্ট্রী এন্ড ফিশ কমপ্লেক্স নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং চৌমুহনীতে ট্রাভেল এজেন্সীর একটি ব্যাঞ্চ অফিস রয়েছে। এটি এলাকায় শিল্প স্থাপনের একটি দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছে। অন্যান্য উদ্যোক্তাগণ, যারা নিজ এলাকায় শিল্পস্থাপনে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন, জনাব খায়েরের এই কর্মকা-ে তারা অনুপ্রাণিত হবেন। জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় খায়েরের তেমন আগ্রহ নেই। অন্যান্য যারা এ ব্যবসায় খুবই ভালো করছেন, নির্ভরযোগ্য পুঁজি গড়ে তুলেছেন এ ব্যবসার মাধ্যমে, তাঁদের বিপুল সাফল্য দেখেও তাঁর মনে ঈর্ষা জাগে না, বলতে গেলে তিনি এ ব্যাপারে একেবারে নির্লিপ্ত। তবে তাঁর একটা নামমাত্র রিক্রুটিং এজেন্সী আছে-টাইম এন্টারপ্রাইজ। ট্রাভেল এজেন্সীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি তার অস্তিত্ব বজায় রেখে চলেছে। তবে ‘ডন মানি এক্সচেঞ্জ’ নামে তাঁর একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি পুঁজি বাজারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সী ব্যবসায়ে জনাব খায়ের একজন প্রথম সারির ব্যবসায়ী। ‘টপ ফাইভ খায়ের’ নামে তিনি এরই মধ্যে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
জনাব খায়ের ১৯৮৩ সালে ব্যবসা শুরু করলেও ১৯৮৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সী জগতে অনলাইন ও অফলাইনে লেবার ক্যারিয়ার বা কর্পোরেট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি পদকপ্রাপ্ত ট্রাভেল এজেন্সী। শুধুমাত্র ট্রাভেল এজেন্সী ব্যবসা করে এ ধরনের সাফল্য বিরল। জনাব খায়ের সেই সব বিরল ব্যক্তিত্বের অন্যতম। ১৯৯০ থেকে তাঁর সাফল্যের মুকুটে আরো নতুন নতুন পালক সংযোজিত হতে থাকে। তাঁকে সেরা ১০ বা ৫ এর মধ্যে আটকে রাখা যায়নি। তিনি চলে এসেছেন ১ থেকে ৩ এর মধ্যে। প্রায় সহস্রাধিক ট্রাভেল এজেন্সীর মধ্যে এই সাফল্যকে ঈর্ষণীয় বললেও কম বলা হয়। এই মুহুর্তে দ্বিধাহীনভাবে তাঁকে ‘টপমোস্ট’ও বলা যায়।
এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ -এ ৬৫জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্ট অফিসে কর্মরত ম্যানপাওয়ার এর দিক থেকেও জনাব খায়ের টপ। এয়ার ট্রিপে ফার্স্ট ক্লাস, বিজনেস ক্লাস কিংবা ইকোনমি ক্লাসের প্যাসেঞ্জার যে কোন সার্ভিসের জন্যেই আসুক না কেন তাঁদের সর্বাধিক যতœ নেয়া হয়। এছাড়া সুষ্ঠুভাবে কাজ সমাধা করার জন্যে যেমন রয়েছে পুরস্কার তেমনি এর ব্যত্যয় হলে অবধারিত তিরষ্কার। কারণ এই ব্যবসাটা সার্ভিস-নির্ভর। সার্ভিস-ওরিয়েন্টেড মন-মানসিকতা ছাড়া এখানে কাজে সাফল্য আসবে না, তেমনি সেবার পরিধিও সম্প্রসারণ করা যাবে না। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ট্রাভেল এজেন্সী ব্যবসায়ে একটি বড় ফ্যাক্টর। ভালো সার্ভিস পেলে গ্রাহক সন্তুষ্ট থাকেন। গ্রাহক সন্তুষ্ট থাকলে গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি ব্যবসায় উত্তরোত্তর সাফল্য আসবে। অন্যদিকে সন্তুষ্ট গ্রাহকের মাধ্যমে তার সার্কেল থেকেও ব্যবসা আসবে। এখানে যে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পায়, ভালো সার্ভিস পায়, তিনি তার আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত লোকজন, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কথা বলবেন। এভাবে ‘গুডউইল‘ সৃষ্টি হয়, ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়। এই ব্যবসায়ে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সঠিক কমিটমেন্ট, ডিলিংস-বিহেভিয়ার, ট্রেডে বাস্তব অভিজ্ঞতা, লেনদেনে সঠিক থাকা। এগুলোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে সজাগ থাকতে হবে। কমিটমেন্ট করে সেই কমিটমেন্ট সঠিকভাবে রক্ষা করতে হবে। এ ব্যবসায়ে ক্যাশ লেনদেন অনেক বেশি। টিকেটের এই টাকা প্রকৃতপক্ষে বিমানেরই টাকা, এ টাকা আবার সংশ্লিষ্ট বিমানকে বুঝিয়ে দিতে হবে। ট্রাভেল এজেন্ট সংশ্লিষ্ট এ টাকার ২% ভাগের মালিক। এজন্য ট্রাভেল এজেন্সী ব্যবসা সিনসিয়ারলি এবং মাথা ঠান্ডা রেখে পরিচালনা করতে হয়।
এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ-কে নিয়ে জনাব আবুল খায়ের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সাফল্যের অগ্রযাত্রায় তিনি অনেক দূর এগিয়ে এসেছেন। তাঁর পুরোনো অফিসটাতে জায়গা ছিল বেশ কনজাস্টটেড। এ অসুবিধা তিনি দীর্ঘদিন থেকে অনুভব করে আসছিলেন। তবে এখানেও তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে চান না। ধীরস্থিরভাবে মেথডেক্যালী, তিনি সব কাজ করেন পরিকল্পনা মাফিক। তিনি ১৯৯৮ সালে নয়াপল্টনস্থ সিটি হার্ট নামক ভবনের ৫ তলায় জায়গা কিনে তাঁর নতুন অফিস খুব আকর্ষণীয়ভাবে চালু করেন এবং ২০০৫ সালে গুলশানের নাভানা টাওয়ারের ৫ম তলায় এয়ার ট্রিপ-এর দ্বিতীয় শাখা খুলে ব্যবসাকে আরো সম্প্রসারিত করেছেন। এয়ারট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে স্থাপন করেছে অনন্য উদাহরণ। দিনরাত ২৪ ঘন্টা এ প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচ্ছে গ্রাহকদের অতুলনীয় সার্ভিস।
নতুন উদ্যোগ (কল সেন্টার)ঃ
এয়ার ট্রিপ -এর বিভিন্নমুখী ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যে নতুন হলো টাইমস এ এস এল কল সেন্টার লিঃ। তিনি এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি এ ব্যবসা সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি কল সেন্টারকে পরবর্তী প্রজন্মের ৫০০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি শিল্প বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ যদি এর থেকে ১% ভাগও আয় করতে পারে তাহলে তার অর্জন হবে ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ৩২ বছরের ট্রাভেল ট্রেড -এ অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী-ব্যক্তিত্ব এম আবুল খায়ের দ্রুত বর্ধনশীল কলসেন্টার শিল্পের রূপরেখা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি কল সেন্টারকে বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি ৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্র-ছাত্রীরা বেকার থাকবে কেন। তারা কল সেন্টারে যোগ দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস খুঁজে পেতে পারে, সাথে সাথে নিজেদের মেধারও বিকাশ ঘটাতে পারে। জনাব খায়ের আরও বলেন, ভারত ও ফিলিপাইনস কল সেন্টার শিল্পে নেতৃত্বে রয়েছে এবং এ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আমরাও এ খাত থেকে মোটা অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, টাইমস এএসএল কল সেন্টারে এক বছর আগেই প্রশিক্ষণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। বিনামূল্যে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে যদি দেখা যায় ট্রেইনীর পারফরমেন্স ভালো তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক কর্মে নিয়োগ দেয়া হয়। যেহেতু এটি ২৪ ঘন্টার কর্মস্থল সেজন্য আমরা কর্মীদেরকে তাদের ঠিকানা থেকে আনা নেয়ার জন্যে ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করে থাকি।
জনাব খায়ের বলেন, কল সেন্টারে কাজ আনার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। এছাড়া বাংলাদেশের মিশনগুলোও এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। টাইমস এএসএল কল সেন্টার ইউকে, ইউএসএ, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াতে কাজ করছে। আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে ওরা বলেছেÑ বাংলাদেশ যে এত ভাল কাজ করতে পারে তা আমরা কখনও ভাবিনি। তিনি বলেন, আসলে আমাদের কান্ট্রি ইমেজ বাড়াতে হবে, বিদেশের কাছে জানাতে হবে আমরা ভাল কাজ করছি।
টাইমস এএসএল কল সেন্টারের পরিচালক মিসেস এফ এস হুমা খায়ের মান্নান, যিনি জনাব খায়ের -এর একমাত্র সন্তান, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসাফল্যের দ্বার উন্মোচন করেছেন। তিনি বলেন, কল সেন্টার শিল্পের মত ফার্স্ট জেনারেশন শিল্পে মেয়েদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের অর্ধেক অংশ নারী সমাজকে অন্ধকারে রেখে কোনদিন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা চিন্তা করা যায় না।
লায়ন মোহাম্মদ আবুল খায়ের সমাজসেবামূলক কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন। তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম- ভবিষ্যতে সমাজ ও জনগণের কল্যাণে কোন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার পরিকল্পনা আছে কি? জবাবে তিনি বলেন, নিজ এলাকা সেনবাগে একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে চিন্তা-ভাবনা করছি। আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসার তেমন সুযোগ নেই, ডাক্তার আছে’ত ঔষধ নেই, থাকলেও ডাক্তারের পদ শূন্য। জীবন রক্ষাকারী ঔষধ গ্রামগঞ্জে দুষ্প্রাপ্য। মানুষ বিনা ঔষধে, বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। অনেকে নানাবিধ সমস্যায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত আসতে পারে না। এরা সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। টপ টেন, টপ থ্রি কিংবা টপ মোষ্ট যেভাবেই আমরা দেখি না কেন, জনাব খায়ের একজন নিষ্ঠাবান ব্যক্তি। তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা একদিনে আসেনি। তাঁকে অনেক দূর যেতে হয়েছে। এই দীর্ঘকালীন ব্যবসা জগতে তিনি ভালো-মন্দ দু’ধরনের লোকের সন্ধান পেয়েছেন। মন্দ লোককে তিনি পরিহার করে চলেছেন, ভালোকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। তাদের সহযোগিতা করেছেন আন্তরিকভাবে। এভাবেই তিনি তাঁর ভক্ত আর অনুরক্তদের এক বিরাট পরিমন্ডল গড়ে তুলেছেন। এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল লিঃ এখন একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে। জনাব খায়েরের গতিশীল পরিচালনায় এবং তাঁর সহকর্মীদের অকুন্ঠ সহযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে যে আরো সাফল্যের জয়মালা ছিনিয়ে আনবে এ বিষয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে ভবিষ্যৎ বাণী করা যায়।
-প্রতিবেদন লিখনেঃ মোহাম্মদ মোস্তফা