গত ২৮ জুন ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের নব-নির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এ টি এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মান্নান খান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি; কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ এমপি; বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান; এফবিসিসিআই -এর সভাপতি এবং হামীম গ্রুপ -এর চেয়ারম্যান এ কে আজাদ; বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম সারওয়ার এবং সদস্য সৈয়দ মোঃ আমিনুল করিম; বিসিএস কর এসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ কাদের সরকার; এফবিসিসিআই -এর সিনিয়র সহ সভাপতি এবং আরটিভি’র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন; কর অঞ্চল-২ ঢাকা’র কর কমিশনার রাহেলা চৌধুরী; বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব কামরুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীপুরের ব্যক্তিত্ব এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব উদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে নৈশভোজের আয়োজনের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের অভিষেক-২০১০ উপলক্ষে সুদৃশ্য স্যুভেনির প্রকাশ করা হয়। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন। স্যুভেনিরে বর্তমান কমিটি ও সাবেক কমিটির কর্মকর্তাদের ছবির তালিকা ছাড়াও কয়েকটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে পূর্তমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কর আইনজীবীগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনেও দেশ ও জাতির স্বার্থে কর আইনজীবীগণ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে আইনী জটিলতা নিরসনকল্পে আয়কর দাবি ও আদায়ের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আইনজীবীগণ প্রশাসনকে আরও বেগবান করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, বিশিষ্ট শিল্পপতি আ হ ম কামাল এমপি শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, আয়কর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় আয়কর আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশ ও জাতির স্বার্থে আয়কর আইনজীবীগণ তাদের দায়িত্ব যথাযথরূপে পালন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে এসোসিয়েশন তাদের মূল্যবান অবদান রাখবেন বলে আমি মনে করি।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ এমপি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে আয়কর আইনজীবীগণ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন -এটিই আমার প্রত্যাশা। কর আইনে ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রেখে প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে কর আইনজীবীগণ এগিয়ে আসবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, আয়কর আরোপ, আদায় প্রক্রিয়ায় কর আইনজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশ ও জাতির স্বার্থ বিবেচনায় কর আইনজীবীগণ তাদের দায়িত্ব পালন করবেন -এটিই প্রত্যাশিত। কর আদায়ে আইনী জটিলতা নিরসনে তাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব আদায় ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এফবিসিসিআই’র সভাপতি ও হামীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে কর প্রশাসনকে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে কর আইনজীবীগণ আন্তরিকভাবে দায়িত্বপালন করে যাবেন -এটি সবার প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন -এর সভাপতি গোলাম সারওয়ার বলেন, বহুবিধ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কর আইনজীবীগণ রাজস্ব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যে অবদান রেখে আসছেন তা অবিস্মরণীয়। আইনের সঠিক প্রয়োগে রাজস্ব আহরণে বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনকে সাথে নিয়ে সর্বদাই বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে।
বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, অতীতের ন্যায় ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন, কর আইনজীবীদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের সকল কর্মকা-ের সাথে একান্তভাবে কর আইনজীবীগণের পূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীপুরের ব্যক্তিত্ব এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী প্রধান অতিথিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা হ্রাসের নিমিত্তে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহে কর আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে আপনি ওয়াকিবহাল। প্রায় তিন হাজার কর আইনজীবীর সমিতির জন্য আপনি ভবন নির্মাণের জায়গার ব্যবস্থা করবেন -এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আমরা যে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো সেগুলো হল- কর আপীলাত ট্রাইবুনালে জেলা জজের আশু সম্পৃক্তকরণ বা মনোনয়ন দান। ক্রম সংকোচনশীল আমদানি শুল্ক ও আমদানি পণ্যের সংযোজন কর বা সম্পূরক করের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির ধারাকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেয়া।
এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরই অর্থ আইনের মাধ্যমে আয়কর আইনে অনেক সংশোধনী আনা হয়। তাই অন্যান্য আইনজীবীর তুলনায় আয়কর আইনজীবীদেরকে অধিক হারে সাহায্য করতে হয়, অন্যদিকে সম্মানিত করদাতাদের ওপর বিধিবহির্ভূত করধার্যের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বদাই নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে গিয়ে দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হয়। আমাদের নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যগণ ধারাবাহিকভাবে প্রথমে ঢাকায় অবস্থিত সব কর অঞ্চলের সম্মানিত কমিশনারদের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজস্ব আহরণ ও কর পেশার কাজ করতে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে এফবিসিসিআই -এর সাথে কার্যকরী কমিটির মতবিনিময় সভা করে ৭/৮টি দাবির ব্যাপারে ঐক্যমতে আসতে পেরেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মিলিত হয়ে আমাদের ১৩টি দাবি সংবলিত একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করি।