ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র (সিএসডিসি) পরিচালিত ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ১০০তম ব্যাচ উদ্বোধন এবং ডিজিটাল ইয়াং-স্টার এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান হল ২৪ জুন, ঢাকা’র তোপখানা রোডস্থ ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডিজিটাল স্টারদের কম্পিউটার-এওয়ার্ড প্রদান করেন। ডিজিটাল স্টারদের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ কলেজ এবং ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’টি কম্পিউটার প্রদান করে ক্যাম্পাস। কলেজের পক্ষে এর ফাউন্ডার তারুণ্যদীপ্ত প্রিন্সিপাল শাহাদাত হোসেন রিয়াজ এবং স্কুলের পক্ষে হেডমাস্টার এ কে এম ফয়েজ সিকদার কম্পিউটার গ্রহণ করেন।
তথ্য-প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ২০০৪ সাল থেকে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং; এর মাধ্যমে গড়ে তুলছে ডিজিটাল ইয়াং-স্টার, যারা ডিজিটাল সোসাইটির চৌকস হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এসকল স্টারকে উৎসাহিত ও নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই ক্যাম্পাস’র ডিজিটাল ইয়াং-স্টার এওয়ার্ড।
ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং কর্মসূচির সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে চায় ক্যাম্পাস। এরই মধ্যে সরকার ৫ জেলায় ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং সম্প্রসারণের অনুমতি দিয়েছে। তন্মধ্যে একটি জেলা লক্ষ্মীপুর।
কম্পিউটার প্রাপ্তির পর ভবানীগঞ্জ কলেজের ফাউন্ডার প্রিন্সিপাল শাহাদাত হোসেন রিয়াজ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন- পড়াশোনা শেষ করে আমরা শহরমুখী হই, কিন্তু যেখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছি, যেখানকার সহজ-সরল মানুষের স্নেহ-ভালবাসায় বড় হয়েছি, তাদের কথা ভুলে যাই। গ্রাম তাই আলোকিত হয় না। অজ্ঞানতা বড় অপরাধ, সে অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করতে লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভবানীগঞ্জ কলেজ। ইতোমধ্যে ভবানীগঞ্জ কলেজ থেকে প্রেরিত শিক্ষককে ট্রেইনারস ট্রেনিং দিয়েছে ক্যাম্পাস। আজ কম্পিউটার দিয়ে আমাদেরকে দায়িত্ব সচেতন করল, শামিল করল আলোকিত মানুষ গড়ার মহৎ কর্মযজ্ঞে। মন থেকে মননে আলো জ্বালানোয় ক্যাম্পাস’র এ প্রয়াস আরও ব্যাপক হোক, ছড়িয়ে পড়–ক গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে -এ কামনা করছি।
ভবানীগঞ্জ কলেজ আধুনিক শিক্ষা তথা কোয়ালিটি এডুকেশন দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কলেজে এরই মধ্যে ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রচুর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কম্পিউটার শিক্ষাকে দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে দ্রুত গতিতে।
সবশেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকা দু’টির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন।
লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ বহুমুখী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষা-প্রশাসক এ কে এম ফয়েজ সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ভবানীগঞ্জ বহুমুখী স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষা চলছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্পিউটার শেখার আগ্রহ দেখে মনে হয়, এখানে কম্পিউটারের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বেসিক ট্রেনিংয়ের পর যাতে এডভান্সড্ ট্রেনিং দেয়া যায় -আশা করি তার ব্যবস্থাও ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ করবেন। আইটি শিক্ষার যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাস, আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র হিসেবে সুধীমহলে আসন করে নিয়েছে। বিশেষ করে অবহেলিত লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সমস্যার কথা সাংবাদিকের কল্যাণে মূর্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা -এ দু’টো পত্রিকার সাফল্য ও পাঠকপ্রিয়তা কামনা করি।
অনুষ্ঠানে ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ব্যাচ ১ থেকে ব্যাচ ৯৯ পর্যন্ত ট্রেইনীদের মধ্য থেকে চৌকস ১০ জন এওয়ার্ড হিসেবে ১টি করে কম্পিউটার লাভ করেন।