date
cover
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
কবিতা

আমার সমুদ্র দেখা
উম্মে সালমা রনি

বাস্তবের সমুদ্র আমি আজও দেখিনি
তবু কেন যেন মনে হয়
গভীর সমুদ্রে আমি ডুবেছি আর ভেসেছি
যে ডুবে যাওয়ায় কেবল শান্তি আর শান্তি ॥

সত্যি, ঐ দু’টো গভীর চোখের সমুদ্রে
আমি কত যে ডুবেছি আর ভেসেছি
বারে বারে খুঁজেছি যেন নিজেকেই
আর পেয়েছি তাকে, আমার সারা পৃথিবীকে ॥

সে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার
স্বয়ং বিধাতার থেকে পাওয়া
তার চোখে চোখ রেখে তাই ডুবেছি আর ভেসেছি
ভালবেসেছি, ধন্য করেছি যেন নিজেকেই ॥

ঐ হাসি, ঐ চোখ, অদ্ভুত সুন্দর ঐ হাতের আঙ্গুল
দেখেছি আর ভেবেছি, ভেবেছি আর বেসেছি
বেসেছি আর ডুবেছি, ডুবেছি আর ভেসেছি,
যেন গভীর সমুদ্রে হাবুডুবু খেয়েছি;
যার অতলে রয়েছে এক বুক ভালবাসা ॥


বিদ্রোহী নজরুল
মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন
এআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ

এক ॥
নজরুল মানেই তুমি বিদ্রোহী
তুমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারী
তুমি ছিলে ন্যায়ের পক্ষে অকুতোভয়
মৃত্যুকে করোনি ভ্রƒক্ষেপ ক্ষণিকের তরে।

তুমি ছিলে নির্যাতিতের সাথে,
তুমিই ছিলে গরীবের বন্ধু
তুমি ছিলে প্রেমের দ্বীপরাজ,
তোমার ভালবাসায় বাংলা ধন্য আজ।

তোমার গানে তোমার লেখনীতে জাগে
স্বাধীনতার কথা, জাগে প্রেমের অনুরাগে।
তুমি ছিলে কথায় কর্মে স্রষ্টার নিকটে,
কবর হয়েছে তাই মসজিদেরই পাশে।

শুনছ আজান তুমি প্রতিদিন পাঁচবার
দোয়া করি, ক্ষমা করুন তিনি শতবার।

দুই ॥
নজরুল আজ তোমার ১১১তম জন্মদিন,
তোমার কাছে বাঙ্গালীর নানাভাবে ঋণ।
বাংলা স্বাধীন হয়েছে তোমার গানে গানে,
তোমার গানে সুর দিয়েছে হৃদয়ের টানে।

তাইতো মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি আনন্দে,
চল চল চল এই গানেরই সুরে।
তুমি ছিলে বিজয়ের প্রেরণার উৎস ভরা,
আমরা অকাতরে দিয়েছি প্রাণ
তাইতো মুক্তিযুদ্ধে হয়েছে আত্মহারা।

গরীবের বন্ধু তুমি, তুমি যে জয়ের প্রতীক,
বঙ্গবন্ধুর ডাকে তোমার গানে পেয়েছি অধিক।
আজ আমরা স্বাধীন, বাংলায় কথা বলি,
তোমার কথা থাকবে স্মরণ আজীবন
জন্ম হোক শত নজরুল তোমার মতো করে,
বাংলা উঠুক মাথা তুলে শোষণের বিরুদ্ধে।



গামছা বাইন্ধা রাখিলা কোথায়
সাখাওয়াত টিপু

হৃদয় ঝুলিয়া আছে মেহেদির ডালে
তুমি হাত রাখ তোমার রক্তিম গালে
এমন কি পাতিয়াছ দেয়ালে দেয়ালে?

ধান দেখিয়া শালিক ছটফট করে
গামছা বাইন্ধা যেন রাখিয়াছ তারে
মন আজ বহিতেছে প্রেমের প্রবরে

কার কাছে গিয়া ঠেক রক্তমাংসসহ
জানা যদি যায় দেহের কত না দহ
বড় একা অবসরে সেই কথা কহ

তুমি কি শুনিবে সখি রাতে বলে রাখি
ধরিয়া ধর না তবু না ধরার আঁখি
ধরা তো সরার জ্ঞান দিন কত বাকি

এত একা ছিল বলে মানুষ জাগছে
খুব জড় ছিল বলে হৃদয় ভাগছে
গরীবের এক মন আকালে পাকছে

ধনের জগৎ তিতা তুমি কত মিতা
ধ্যানে আছ জ্ঞানে নাই এইরূপ সীতা
চুপ কেন থাকিতেছ প্রজ্ঞা পারমিতা


টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত
জফির সেতু

জংলি করচের বনে সূর্য নিভে গেলে
জলের গন্ধ তীব্র হয়ে ওঠে
লাল-শির ভুতি হাঁসের দল
পৃথিবীর সব কলহাস্য নিয়ে নিশ্চুপ
কুয়াশার শূন্য-প্রান্তরে;
মাছেদের ঘাই আর পতঙ্গের ডাকে
অজ্ঞাত মহাস্তব্ধতা বিশ্বচরাচরে
টাঙ্গুয়ার হাওরের রাতে লেগে আছে
কুরুক্ষেত্রের রোমাঞ্চ, আশ্লেষ ও শীত।


বাংলামটর মোড়
আলফ্রেড খোকন

তোমাকে বোঝা গেল না বলে
বোঝানোও অসম্ভব
রাত্রি নির্লজ্জ, রাতে পাখির কলরব
নিয়ে আসে অধীর সকাল
আসে আলোচনাদল
আমরা আলোচনা করি,
আলোচ্য সভার নাম নিরুপদ্রব;

এখানে ছন্দ আছে, তাহলেই ছাপা
হঠাৎ বাংলামটর মোড় চেঁচিয়ে বলল:
‘গাধা নাকি, দেখছেন না খাচ্ছি চাপা?’

চাপা খেতে খেতে আমাদের কোমর
এদিকে মনে রাখতে হচ্ছে বাংলামটর মোড়
চাপা খেতে ক্ষেতে বোনা রবিশস্য
টয়লেটে বোনা কিছু নিদারুণ মৎস্য
চাপা খেতে খেতে আমাদের কোমর,
সময়, এখনো নেয়নি মোড় বাংলামটর।

 
lbheading