লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ৪ জলদস্যু গ্রুপ সক্রিয়
মেঘনা নদীর দুর্ধর্ষ জলদস্যু ফজলু গ্রুপের প্রধান ফজলুল হক তার সহোদর মোঃ মজনু এবং অপর দুই সহযোগী মাকসুদুর রহমান ও মোবারক গাজীসহ অভিযুক্ত ৪ জলদস্যু গ্রেফতার হলে জেলেদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও পুরোপুরি উদ্বেগ উৎকন্ঠা কাটেনি সংশ্লিষ্ট এলকার মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিক ও সাধারণ জেলেদের। কারণ, এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে আরও ৪টি জলদস্যু গ্রুপ।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি, নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলার তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় আরও ৪টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। মাছ ধরা মৌসুমে ওইসব জলদস্যু গ্রুপের দাপটের কারণে জেলেরা অসহায় হয়ে পড়ে। এসব গ্রুপের ৭০-৮০ জন জলদস্যু এলজি, কাটা রাইফেল, দেশি বন্দুক, রামদা ও কিরিচ নিয়ে ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগামী ট্রলারযোগে প্রতিদিন জেলেদের মাছ ধরার ট্রলারে হামলা চালাচ্ছে। তারা জেলেদের মারধর করে ট্রলার, জাল ও মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রলারসহ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণও আদায় করছে জলদস্যুরা। এ অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে হয় জলদস্যুদের হাতে মার খেয়ে জাল ও নৌকা হারাচ্ছেন, অথবা নৌকাপ্রতি ৫-৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলে, মাছ ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জলদস্যুদের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেন এমন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা নদীর ওই অঞ্চলের সক্রিয় অন্য ৪টি জলদস্যু গ্রুপ হচ্ছে- জিয়ার চরের মজিদ মাঝি ওরফে মজিদিয়ার ‘মজিদিয়া গ্রুপ’, চর আলেকজা-ার আসলপাাড়র আবদুল বাছেত ওরফে বাছেকের ‘বাছেক গ্রুপ’, ভোলার চর জহিরউদ্দিনের ‘জসিম গ্রুপ’ ও রামগতির বড়খেরির ‘সামছু গ্রুপ’।
মজিদিয়া গ্রুপের প্রধান আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাঝি ওরফে মজিদিয়ার আস্তানা নোয়াখালীর চর জব্বার থানা জিয়ার চর ও বা¹ার চরে। মজিদিয়া জিয়ার চরের এক সময়ের কুখ্যাত বনদস্যু শফি বাতাইন্যার দলে কাজ করত। এ গ্রুপের হাতে ৩-৪টি পাইপগান, কাটা বন্দুক ও দেশি কয়েকটি রামদা, ছেনি রয়েছে। তাদের বাড়ি জিয়ার চর, চর বা¹া ও বয়ার চর এলাকায়। বয়ার চরের কাইয়ূম মেম্বারের খাল ও টাংকি বাজার পয়েন্টকে এরা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে মেঘানা নদীর হাতিয়া চ্যানেল, চর গজারিয়া, তেলির চর ও মৌলভীর চর এলাকায় দস্যুতার কাজ করে থাকে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।
শামছু গ্রুপের প্রধান সামছুদ্দিনের বাড়ি রামগতির বড়খেরি গ্রামে। এ গ্রুপে ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছে। সামছু দলের সদস্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাকেই বেশি পছন্দ করে। এ গ্রুপটি সন্দ্বীপ চ্যানেল ও নিঝুম দ্বীপ এলাকাসহ গভীর সমুদ্রে কাজ করলেও ভরা মৌসুমে মেঘনা নদীর তেলিরচর, মৌলভীর চর ও হাতিয়া চ্যানেলে কাজ করে। এ গ্রুপের হাতে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বাছেক গ্রুপের প্রধান আবদুল বাছেত ওরফে বাছেকের বাড়ি রামগতির সেবা গ্রাম এলাকায়। এরা উপজেলা সদরের আসল পাড়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে মেঘনা নদীর আবদুল্লাহরচর, চরগজারিয়া, তেলিরচর, চরসেরাজ ও লুধুয়া ঘাট এলাকায় কাজ করে থাকে। এ গ্রুপে সাহাবউদ্দিন ও নাছিরের কমান্ডে ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। এদের ভোলা এবং রামগতির বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। |